Popular Posts

Monday, August 29, 2011

Eid message from Prof. Dr. Sheikh Abdus Samad, President & Kazi Masum Akhter, GS


We would like to wish Eid Mubarak to all Members of The West Bengal Muslim Association and their families.
The blessed month of Ramadan allows us to consider what our faith means to us, and why it is important to live a good and fulfilling life. It is also a time to reflect on the world in which we live, and what our contribution to it is.
As we spend Eid with our loved ones, we must also think about those less fortunate - the people of Indian minorities and people suffering from the terrible drought in East Africa, those affected by violence and oppression in the Middle East and of course victims of the unrest we've seen in Indian states including those are fighting within flood . While we celebrate Eid, we will also hold all these people in our thoughts and prayers.
Once again, Eid Mubarak.
With best wishes & Jazakallah Khair. 

Saturday, August 27, 2011

বিশ শতকের ভারতীয় ও বিশ্ব প্রেক্ষাপট বিচারে নজরুল একক মহোত্তম পুরুষ


বিশ শতকের ভারতীয় ও বিশ্ব প্রেক্ষাপট বিচারে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এক মহোত্তম পুরুষ। তার যথার্থ মূল্যায়ন আমরা করতে ব্যর্থ হয়েছি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী I নজরুল ইতিহাস ও সময়সচেতন মানুষ ছিলেন যার প্রভাব তার লেখায় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। বিশ শতকের ভারতীয় ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বিচার করলেই নজরুল এক মহোত্তম পুরুষ। সেসময় বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদবিরোধী যে নতুন জাগরণ শুরু হয় নজরুল তার সার্থক চেতনাবাদক। তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তার সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন। সেই সময়ে ধর্মান্ধ মুসলমানদের তিনি পুনর্জাগরণের ডাক দিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তার ভূমিকা একজন বলিষ্ঠ নেতার মতোই। নজরুলের যথার্থ মূল্যায়ন আমরা করতে ব্যর্থ হয়েছি কিন্তু, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সরকার নজরুলকে চিনতে ভুল করেনি। তাই তাকে জেলে যেতে হয়েছে, তার বই হয়েছে নিষিদ্ধ। অসাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন নজরুল যা আজও আমাদের অধরা। নজরুলের সে স্বপ্নকে আমাদের বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
নজরুলের রচনায় বিদেশী ভাষায় ব্যাপক অনুবাদ করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কালজয়ী রচনার বিভিন্ন ভাষাভাষী পাঠকের কাছে উপস্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নজরুল আবিষ্কৃত হচ্ছে নতুনভাবে এবং দিনে দিনে তার অসাধারণত্ব বহুকৌণিকভাবে উদ্ভাসিত হচ্ছে। 

সৈয়দ বদরুদ্দোজা : একটি নাম একটি আন্দোলন


সৈয়দ আশরাফ আলী
আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ জন্মগ্রহণ করেন, যাঁদেরকে ধ্রুব নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কারণ, তাঁরা এমন মহিমান্বিত বৈশিষ্ট্যের প্রোজ্জ্বল দ্যুতিতে ভাস্মর থাকেন, যার নিশ্চিন্ত-নিরাপদ ইশারায় আপামর জনগণ সামনে চলার পথ খুঁজে পায়। সমাজে এমন সব ক্ষণজন্মা মানুষের আবির্ভাবের কারণেই সমাজ, দেশ ও জাতি এগিয়ে যায় অগ্রগতি ও প্রগতির দিকে; বেগবান হয় সভ্যতার পথচলা। তাঁরা সাধারণের স্বার্থ ও কল্যাণে আপন স্বার্থ বিসর্জন দেন; অবলীলায় ত্যাগ করেন জাগতিক লোভ-লালসার ঐশ্বর্যময় সম্ভার। তাঁরা সত্যকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে দৃঢ়চিত্ত; মিথ্যাকে মিথ্যা বলে ঘৃণা করতে নিঃশঙ্ক, দ্বিধাহীন। বস্তুত তাঁদের আত্মত্যাগের স্বেদাক্ত ইটেই রচিত হয় সমৃদ্ধ সমাজ-সভ্যতার সুদৃঢ় বুনিয়াদ।
সৈয়দ বদরুদ্দোজা ছিলেন এমনই আলোকসম্পন্ন মানুষের প্রতিনিধি। এই অসাধারণ বাগ্মী পুরুষ অকুতোভয়ে, দ্বিধাহীনচিত্তে মুসলমানদের স্বার্থে কথা বলেছেন। তৎকালীন ভারতবর্ষের সাড়ে সাত কোটি মুসলমানের একান্ত সুহৃদ, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সুখ-দুঃখের বিশ্বস্ত সাথী সৈয়দ বদরুদ্দোজা নানা প্রতিকূল ঝড়-ঝঞ্ছা, তরঙ্গ-সংকুল বৈরি পরিবেশের মধ্যেও একাকী এক স্বয়ংসম্পূর্ণ ইনস্টিটিউশনের মতো যেভাবে স্বজাতি, স্বসমাজের খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন, তা গৌরবময় ইতিহাস হিসেবে স্মরণীয়, আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
মুসলিম মিল্লাতের তেজোদৃপ্ত কণ্ঠস্বর, পঞ্চাৎপদ জাতির জরাভয়ের প্রতীক এই অসাধারণ কর্মবীর ১৮৯৭ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জানা যায়, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব প্রদত্ত এক শাহী ফরমানবলে সৈয়দ বদরুদ্দোজার পূর্ব পুরুষগণকে পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদে। মুর্শিদাবাদের তৎকালীন নবাব ভারত-সম্রাটের ফরমান মোতাবেক যে গ্রামে সৈয়দ-পরিবারের বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন, আজও তা ‘সৈয়দ কুলুট' নামে পরিচিত।
আলোকোজ্জ্বল ও বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী সৈয়দ বদরুদ্দোজা কলিকাতাস্থ আলিয়া মাদরাসা থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে বৃত্তিসহ প্রবেশিকা পরীক্ষায় (এখনকার এসএসসি) উত্তীর্ণ হন। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি দর্শন শাস্ত্রে অনার্সসহ এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। একই সঙ্গে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএল ডিগ্রিও লাভ করেন। অসাধারণ মেধাবী ছাত্র সৈয়দ বদরুদ্দোজা বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অসুস্থ শরীরের জন্য ডাক্তারী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ঘোষিত হন। এই ঘটনাটিই বোধ হয় তাঁর জন্য শাপে বর হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, সিভিল সার্ভিসে যোগ দেয়ার সুযোগ নষ্ট হওয়ার জন্য তাঁকে বাঁধা-ধরা চাকরির সীমিত গন্ডির মধ্যে একান্ত বশংবদ সরকারি চাকরিজীবীর মতো জীবন কাটাতে হয়নি; তাঁর সামনে উন্মুক্ত হয় জনসেবা ও স্বাধীন মত প্রকাশের এক সুবিশাল ক্ষেত্র। আর এ কারণেই বোধহয় আমরা একজন স্বাধীনচেতা, নিঃশঙ্ক, স্বার্থত্যাগী এক ‘সম্পন্ন' সৈয়দ বদরুদ্দোজাকে অর্ধ শতাব্দীরও অধিককাল প্রবল দাপটে বিচরণ করতে দেখি রাজনীতি, সমাজসেবা তথা ভারতীয় সংখ্যালঘু মুসলমানদের অধিকার আদায়ের কণ্টকাকীর্ণ ময়দানে। ভারতীয় মুসলমানদের সেবায় তিনি তাঁর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছিলেন পরিপূর্ণভাবে। ছাত্র জীবন থেকেই অসাধারণ বাগ্মী হিসেবে তিনি প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন। ১ম বর্ষ আই এ ক্লাসে অধ্যয়নকালেই একটি বিশাল জনসভায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী বক্তৃতা প্রদান করে তিনি রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। শুধুমাত্র তাঁর বাগ্মিতা তাঁকে সান্নিধ্য এনে দেয় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের মতো অসাধারণ ব্যক্তিত্বের। বাংলা ও ইংরেজিতে তাঁর অপূর্ব বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে দেশবন্ধু সিআর দাস সৈয়দ বদরুদ্দোজাকে সরাসরি কলকাতা করপোরেশনের এনটালী মার্কেটের সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ করেন। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে কলকাতাস্থ হগ মার্কেটে (নিউ মার্কেট) কর্তব্যরত থাকাকালীন এই নির্ভীক সংগ্রামী পুরুষ কলকাতা করপোরেশনের তদানীন্তন মেয়রের অন্যায় আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং অন্যায় আদেশ মান্য করার চেয়ে চাকরি থেকে পদত্যাগ করা শ্রেয় মনে করেন। মেয়রের অন্যায় নির্দেশের বিরোধিতা করে চাকরি ত্যাগ করার কয়েক বছর পর এই একই সৈয়দ বদরুদ্দোজা নিজেই ১৯৪৩ সালে কলকাতা করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। অবিভক্ত বাংলায় তিনিই ছিলেন কলকাতা করপোরেশনের চতুর্থ এবং সর্বশেষ মুসলমান মেয়র।
১৯৩০ সালে কলিকাতার অ্যাবার্ট হলে বক্তৃতা প্রদানকালে তিনি কায়েদ-এ-আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর অসাধারণ বাগ্মিতার জন্য জিন্নাহ তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দিত করে তাঁকে যে দুর্লভ সম্মান দেখান, তা ছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে সৈয়দ বদরুদ্দোজার অনন্য প্রতিভা ও বিরল ব্যক্তিত্বের যে আভাস পাওয়া যায় তা কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যাপার নয়; এর মহীরুহ সদৃশ এক বিশাল ব্যক্তিত্বের প্রমাণ তিনি রেখে গেছে সারাজীবন, তাঁর কর্মে, চিন্তায়, বিশ্বাসে।
১৯৩৩ সালে সৈয়দ বদরুদ্দোজা কলকাতা করপোরেশনের কাউন্সিলার পদে নির্বাচিত হন এবং শেরে বাংলা ও সুভাষ চন্দ্র বসুর দুর্লভ সান্নিধ্য লাভ করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি এমএলএ ও এমএলসি উভয় পদে নির্বাচিত হবার দুর্লভ গৌরব লাভ করেন। ১৯৪০ সালে কলকাতা করপোরেশনের একজন সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি শ্রীকৃষ্ণের চরিত্রে কলঙ্কলেপন করার প্রয়াস নিলে সৈয়দ বদরুদ্দোজা প্রকাশ্য মিটিংয়ে তার তীব্র প্রতিবাদ করে ঘোষণা করেন যে, ইসলাম ধর্মে এ ধরনের গৃণিত আচরণের কোনো স্থান নেই। তাঁর এই প্রশংসনীয় আচরণ এক বিরাট সংকটময় পরিস্থিতি থেকে কলকাতা করপোরেশনকে সেদিন রক্ষা করে এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু স্বয়ং সৈয়দ বদরুদ্দোজাকে তাঁর এই মহানুভবতার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। ১৯৪৩ সালে কলকাতা করপোরেশনের মেয়র পদে সৈয়দ বদরুদ্দোজা নির্বাচিত হন এবং তার প্রতিদ্বনদ্বী ছিলেন ভারত বিখ্যাত ধনকুবের এম এম ইস্পাহানী। মেয়র নির্বাচিত হবার পর দুর্ভিক্ষের কবল থেকে জনসাধারণকে বাঁচাবার প্রয়াসে তিনি স্যার উইন্সটন চার্চিলসহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছে যে ব্যক্তিগত আবেদন পাঠান তাতে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যায়।
ভাইসরয়ের ওয়ার কাউন্সিলে যোগদান করার অপরাধে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুসলিম লীগ থেকে বহিষ্কার করা হলে একজন একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে সৈয়দ বদরুদ্দোজাও মুসলিম লীগ ত্যাগ করেন। কায়েদে আযমের মতো বিশাল ব্যক্তিত্ব টেলিফোনে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার জন্য সৈয়দ বদরুদ্দোজাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ জানান। কিন্তু এই অতি দুর্লভ অনুরোধ সত্ত্বেও সৈয়দ বদরুদ্দোজা তাঁর প্রিয় নেতা শেরে বাংলাকে পরিত্যাগ করতে অস্বীকার করেন।
১৯৪৭ সালের পার্টিশনের পর তিনি একজন নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভায় ১৯৪৮ সালে নির্বাচিত হন। ভারতের প্রতিটি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য অন্ততপক্ষে ৫% পদ রিজার্ভ করার জন্য তাঁর প্রস্তাব রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯৫০ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সাড়ে তিন মাসব্যাপী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় বিপন্ন মুসলমানদের রক্ষা করার প্রয়াসে তিনি দিবারাত্র পরিশ্রম করেন এবং দুই দুইবার নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান। তাঁর নিরাপত্তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় সশস্ত্র দেহরক্ষীর ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিলে তিনি ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৫০ সালে তাঁকে প্রথমবারের মতো সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। সাম্প্রদায়িকদের হাতে কলকাতা চেম্বার অব কমার্সের মি. ক্যামেরুনের প্রকাশ্যে দিবালোকে নির্মম হত্যাকান্ডের পর তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জহরলাল নেহেরু কলকাতায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে বাধ্য হলে, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে সৈয়দ বদরুদ্দোজা প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করেন এবং সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র হাওড়ার একটি জুট মিলেই অন্ততপক্ষে ১৭০০ মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৫২ সালে তাঁরই অনুপ্রেরণায় ত্রিদিব চৌধুরী প্রথমবারের মতো লোকসভায় নির্বাচিত হন। পরবর্তী পর্যায়ে এই ত্রিদিব চৌধুরীই ভারতের রাষ্ট্রপতি হবার জন্য বিরোধী দলের সম্মিলিত মনোনয়ন লাভ করেন।
১৯৫৩ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম কনভেনশনের সভাপতি হিসেবে আলীগড়ে সৈয়দ বদরুদ্দোজা ইংরেজি ও উর্দুতে যে সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী অনলবর্ষী বক্তৃতা দেন তা ভারতে সম্পূর্ণরূপে তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। অদ্যবধি তা ভারতে নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হয়। ঐ এতিহাসিক বক্তৃতার ফলে আলীগড় ও দিল্লির মুসলমানেরা তাঁকে ‘কায়েদ-এ-আকবর' উপাধি প্রদান করে। কিন্তু ‘সিকিউলিয়ার' ভারত সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রতিবেশি রাষ্ট্রে গোপনীয় সামরিক তথ্য পাচার করার মিথ্যা অভিযোগে সুদীর্ঘ সাড়ে তিন মাস কারারুদ্ধ রাখার পর মধ্য রাত্রিতে এক সদস্যের একটি গোপনীয় ট্রাইব্যুনালের সম্মুখে তাঁকে হাজির করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়ে তিনি সুদীর্ঘ চার ঘণ্টার এক জ্বালাময়ী বক্তৃতা প্রদান করেন। বিমুগ্ধ বিচারক তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ নির্দোষ হিসেবে মুক্তি প্রদানের নির্দেশ দেন।
১৯৫৭ সালে নির্দলীয় সদস্য হিসেবে তিনি পুনরায় বিধান সভায় নির্বাচিত হন। একজন নির্বাচিত সদস্য হিসেবে তাঁকে ১৯৫৮ সালে একটি দলিল স্বাক্ষর করতে নির্দেশ দেয়া হয় যাতে দাবি করা হয় যে, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সৈয়দ বদরুদ্দোজা উক্ত দলিল স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করার জন্য এবং সেই সঙ্গে সদস্য পদ বাতিল করে অন্যান্য কঠোর শাস্তি প্রদানের প্রয়াসে বিধান সভার একটি বিশেষ অধিবেশনে সৈয়দ বদরুদ্দোজা বীরদর্পে ঘোষণা করেন যে, তিনি ভারতীয় সংবিধানের প্রতি অনুগত, কিন্তু কংগ্রেসী প্রশাসনের কাছে বিন্দুমাত্র অনুগত নন। তাঁর অকাট্য যুক্তি ও সুতীব্র বাগ্মিতার চাপে অভিযোগ উপস্থাপনকারী মন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় (পরবর্তী পর্যায়ে যিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন) এবং মীরজাফরের বংশধর নওয়াব কাজেম আলী মির্জা তাদের মিথ্যা অভিযোগ বিনা শর্তে প্রত্যাহার করতে এবং ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। শুধু তাই নয়, এই দুর্দম মুজাহিদের কণ্ঠরোধ করার জন্য কংগ্রেস সরকার ১৯৫৮ সালেই তাঁকে শিক্ষামন্ত্রী হবার জন্য সরাসরি প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু সত্যের পূজারী, ইসলামের একনিষ্ঠ খাদেম মুসলিম-বিরোধী সরকারের সে প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। (চলবে)

Sunday, August 14, 2011

WBMA EXECUTIVE COUNCIL MEETING HELD ON 14.8.11 AT 1PM

THE EC MEETING OF THE WBMA IS HELD ON 14-8-11 AT 1PM AT 69 ELLIOT ROAD UNDER THE CHAIRMANSHIP OV THE WBMA PRESIDENT PROF. SA SAMAD. ABOUT 17 EC MEMBERS WERE PRESENT. THE MEETING WAS STARTED WITH THE RECITATION OF THE HOLY QURAN BY DR M. CHISTY. DISCUSSIONS WERE HELD ON THE WBMA COSTITUTION, AIMS AND OBJECTS, FORMATION OF DISTRICT CONVENORS, DIFFERENT SUB-COMMITTEES, VARIOUS PROBLEMS OF THE COMMUNITY FACING NOW, GIRLS HOSTELS PROBLEMS, ETC
MONTHLY EC MEETING WILL BE HELD ON EVERY 2ND SUNDAY AT 3.30PM OF EVERY MONTH.
THE MEETING WAS ENDED WITH THANKS TO CHAIR AND DUA

Thursday, August 11, 2011

Nazrul neglected throughout

Giasuddin Dalal
Received on 11-8-11
The builder of two nations in general and the heritage literator in particular Kazi Nazrul Islam has totally been neglected throughout in this part of Bengal.

Some corners have started to believe this as deliberate when some are raising fingers to his political victimization as Nazrul is the writer of the first political novel in Bengali Literature named Mrityukhudha translated as Hunger for Death, spreading political ideologies in Indian states in the line of Bolshevik movement  of Russia. This novel has been compared to Gorky’s Mother but the political party or parties even in favor of the the ideology did nothing to upheld his literature.

Though Nazrul was one of the principal motivators of the Bengalese in general and  Bengali Muslims in particular and his literary efforts were directed  solely to  liberate India, Nazrul was never given the respect or recognition  as a maker of Indian Nation.
No effort from the Central or State Authorities  was seen to promote  his literature  beyond the linguistic boundary of Bengal by translating his works in the world language There is total lack of initiation on their part Refusal to patronize any individual  effort on such lines has clearly exposed their apathy  for what Nazrul and Nazrulism stand for though they speak of socialism, equality and communal harmony. All approaches to the state chief  or the central ministers- in- charge have  failed to yield any result  as this correspondent experienced.

His birth centenary went colorlessly and none witnessed the performers of his wide variety of songs  collected from countries worldwide  and presented  with a perfect blend of Bengalism and Indian ness. And how can they unless patronized or sponsored for it ?

Is this because upholding his creation is upholding the community he has picturized? A pertinent question thus passes uncared for and unanswered.

But the emerging importance of play of numbers in the recent electoral arena seems to lead to some kind of compulsions to ponder over the works of the poet in a gesture of appeasement of the community Nazrul has pictured  in his literary pursuit honestly  like a great artist as per the theory of T.S Eliot.

The educationally and culturally enlightened  members of that section of society are waiting as if  to see their own recognition through the recognition  and culture of Nazrul Literature in Bengal, in India as they know that no change is static and is always subject to further changes.


--
Thanks & Regds.
Giasuddin
9332076939

Wednesday, August 10, 2011

WBMA NEED YOUR HELP AND SUPPORT

Assalamu Alaikum wa Rahmatullah,

Dear brothers and sisters,
The holy month of Ramadan has blessed us once again—Ramadan Kareem! We thank Allah for giving us this month to strengthen our faith and improve our selves.
For the past 16 years, WBMA has worked in social services, education, outreach and spiritual development to better society and portray the true meaning of Islam. By Allah’s grace WBMA has provided food and aid to the needy at home, distributed free Islamic literature in cities nationwide, brought the youth closer to Allah and His deen, and made a difference in the lives of Indians across the country.

In order to continue this work, we need your help. I am writing to you today to ask for your support. As a supporter of WBMA, your donation will make a difference and further the reach of our efforts. Your generous contribution will fund projects such as:

  1. The Understanding Shariah Campaign
  2. Back 2 School Giveaway
  3. Dawah Projects
  4. Muslim Family Day
  5. Muslim Solidarity Day
  6. Students Educational & Health Project
  7. Students Scholarships Fund
  8. Muslim Charity & Housing Fund
  9. Zakat Fund
  10. Disaster and Relief Fund  

The Prophet (S) said that during the month of Ramadan, “Every action of the son of Adam is given manifold reward, each good deed receiving ten times its like, up to seven hundred times.”

This Ramadan, I appeal to you to donate to WBMA. Take advantage of this month and multiply your good deeds. Your donation will help us continue to make a significant impact as the largest grassroots Muslim organization in the Indian State of West Bengal.

Your brother in Islam,
Prof Dr SA Samad
WBMA President

Sunday, August 7, 2011

TODAY'S 07-08-11 EC MEETING IS POSPONED

WE ARE VERY  SORRY THAT THE EC MEETING AS WELL AS IFTAR PARTY IS CANCELLED TODAY ON 7-8-11 AT 3 PM DUE TO BAD WEATHER, HEAVY RAIN FALL AND WATER LOGGING IN OUR OFFICE AREAS.

THE NEXT MEETING DATE WILL BE ANNOUNCED VERY SOON.

PROF DR SA SAMAD, PRSIDENT, WBMA

AND
 KAJI MASUM AKHTAR, GS, WBMA

Thursday, August 4, 2011

WBUT EXECUTIVE COUNCIL MEETING AND IFTAR PARTY

A MEETING OF THE NEWLY FORMED EXECUTIVE COUNCIL MEMBERS WILL BE HELD ON 7TH AUGUST, 2011 AT 3PM AT 69 ELLIOT ROAD, KOL-16. ALL EC MEMBERS ARE REQUESTED TO PARTICIPATE THE MEETING ALONG WITH AN IFTAR PARTY INSAALLAH.

WITH HOLY RAMADAN MUBARAK

YOURS BROTHERS
PROF DR SA SAMAD, PRESIDENT

KAJI MASUM AKHTAR, GENERAL SECRETARY
DATED 5.8.11

Thursday, July 28, 2011

GENERAL BODY MEETS ON 31ST SUNDAY 3.30PM

A meeting of the General Body of the West Bengal Muslim Association (WBMA) is going to be held on Sunday the 31st July 2011 at 3.30pm at 69 Elliot Road, Kol-16. WBMA is a non-political platform for the Bengal intellectual Muslims for all round development of the 40 % backward muslim community of the State.
So we are requesting all WB intellectual muslims to come forward for their own community development in education, employment, reservation, and other problems including peaceful living with religious faith and hermony.

This is our humble request to come forward and join WBMA Platform for empowerment and getting ligitimate demands.

with thanks and salam,
yours brothers

Prof. Dr. Sheikh Abdus Samad, President, 9732606970
and
Br Kaji Masum Akhter, General Secretary, WBMA , 9831685793
28/7/11

Tuesday, July 26, 2011

অজ্ঞতাই মুসলিম নামধারী বুদ্ধিজীবীদের ইসলাম বিদ্বেষের আদি উৎস

যারা রাজনীতি ও ধর্মকে আলাদা আলাদাভাবে দেখতে চান তারা হয়তো রাজনীতি এবং ধর্ম উভয়টাই সম্পর্কে অজ্ঞ, নয়তো জেনে বুঝে আবু লাহাবীদের মতো বাড়াবাড়ি করছেন। তারা ধর্মকে মসজিদ, কুরআন তেলাওয়াত ও যিকিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান। তারা ধর্ম মানতে রাজী কিন্তু রাজনীতিতে ধর্মের বর্তমান থাকাটা মেনে নিতে পারছেন না। কিন্তু যারা একবারও ভেবে দেখেছেন কি, স্রষ্টা আপনাদের খেয়াল খুশিমতো চলার জন্যই আপনাদেরকে আশরাফুল মাখলুকাত করে পাঠাননি। আল্লাহ পাক আপনাদের পথ প্রদর্শক হিসেবে জগতের মূর্ত প্রতীক রূপে প্রেরণ করেছেন শেষ নবীকে এবং এ সম্পর্কে যাবতীয় পূর্ণাঙ্গ বাণী পেশ করেছেন সামগ্রিক জীবন ব্যবস্থা সম্বলিত আল কুরআন। আপনারা নবী (সা.) কে নবী রূপে বরণ করে নিলেন কিন্তু তাঁর জীবনটাকে পর্যালোচনা করার সাধ কি আপনাদের অন্তরে একবারও জাগে না। আমাদের পেয়ারা নবী হুজুর পাক (সা.) তো মসজিদে বসে বসে কেবল নামাযেই রত থাকতেন না কিংবা অন্যকে এ উপদেশ দিয়েই ক্ষান্ত থাকতেন না। পাশাপাশি তিনি মসজিদে বসে সুদ, ঘুষ, জেনা, হিংসা-দ্বেষ প্রভৃতি সমাজ হতে উৎপাটনের বিধান শুনাতেন, পারিবারিক বিচার করতেন, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণ করতেন। তাকে মহান প্রভু যদি মাত্র ধর্মের দায়িত্বই দিতেন তার কার্যধারা আল্লাহর একাত্ম ঘোষণার মাঝেই সীমিত থাকতো। তাঁকে করতে হতো না যুদ্ধ, দিতে হতো না রক্ত।
এ দেশের একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের ইসলাম বিরোধিতা আমরা লক্ষ্য করে আসছি। ইসলাম শব্দটাতেই এদের এলার্জি। এরা যে সব ধর্মের ব্যাপারেই এলার্জিক এমন নয়। হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপারে এরা মোটেই সমালোচনা মুখর নয়। এমনকি খৃষ্টধর্মের প্রতিও এদের তেমন বিরূপ বলে মনে হয় না। অথচ এরা মূলত মুসলিম নামধারী। কেউ কেউ ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারেও জন্মেছেন। কিন্তু মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়াটাকে এরা কোনো গৌরবের বিষয় হিসেবে গণ্য করেননি। বরং এর জন্য তাদের মধ্যে এক ধরনের হীনমন্যতাই লক্ষ্য করা গেছে। এদের স্ত্রী বা পুত্র কন্যাদের মধ্যেও মুসলিম হিসেবে আদৌ কোন গৌরববোধ নেই।
পোশাক-আশাকে বা চালচলনে এরা বরং নিজেদের বাঙ্গালী সংস্কৃতির ধারক-বাহক প্রমাণ করতে গিয়ে নিজেদের পারিবারিক আবহাওয়া থেকে মুসলমানদের জন্মগত পরিচয় চিহ্নগুলো ত্যাগ করতেই প্রয়াসী বলে মনে হয়েছে। যেন মুসলিম ঐতিহ্যগত চিহ্নসমূহ শরীরে এবং পোশাক-পরিচ্ছদে রাখলে তিনি আর বাঙ্গালী  হতে পারেন না। তাদের কাছে দাড়ি, টুপি, নামায, রোযা, হজ্ব বা যাকাত এই সবই অর্থহীন কর্মকান্ড মাত্র। হাস্যকর বলে ধারণা। অথচ এইসব ব্যক্তিদের অনেকেই নামের আগে সৈয়দ লিখতে খুব পছন্দ করেন। সুপরিচিত ইসলাম বিদ্বেষীদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা নামের আগে ভুলক্রমে ‘সৈয়দ' না লিখলে দারুণ ক্ষুব্ধ হন। তারা যখন ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে মুসলিম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকায় প্রবন্ধাদি লেখেন তখন মুদ্রিত নামের আগে ‘সৈয়দ' শব্দটা জ্বলজ্বল করে। তারা বোঝাতে চান তারা মুসলিম পরিবারের মতো খারাপ পরিবেশে জন্মালেও খুবই উঁচু বংশে জন্মেছেন। তারা সাধারণ মানুষ নন। অসাধারণ মানুষ বলেই তারা এখন আর মুসলমান থাকতে রাজি নন।
এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তিতে অন্ধ কতিপয় দিকভ্রান্ত বুদ্ধিজীবীই এখন বাংলার ইসলামী আন্দোলন এবং পবিত্র কুরআনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যদি একটু পরীক্ষা করে দেখা যায় তবে দেখা যাবে এরা ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে জন্মালেও শিশুকাল থেকেই এরা ছিলেন ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষা থেকে গাফেল। এদের অধিকাংশের বাল্যে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। শিশুকালে কেউ তাদের পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত বা সূরাও পড়ায়নি। কেউ বাল্যে এদের কিভাবে নামাযে দাঁড়াতে হয় শেখায়নি। নামায এরা জানে না বলেই এর মাহাত্ম্য বুঝে না। এদের প্রকৃতপক্ষে কোন প্রার্থনা পদ্ধতি জানা না থাকায় তারা প্রার্থনা করে না। অথচ এদের সবাই যে নাস্তিক এমনও নয়। তারা নামায জানলে নামায আদায় করতেন। কিন্তু জানেন না বলে লজ্জায় এখন আর কারো কাছে গিয়ে শিখতে পারেন না। অথচ অনেকেরই প্রাণ আল্লাহর মসজিদে গিয়ে সবার সাথে সিজদায় লুটিয়ে পড়তে আকুলি-বিকুলি করে।
আমি এমন অনেক ধর্মনিরপেক্ষ ইসলাম বিদ্বেষী মুসলমানকে জানি, যিনি রমযান মাসে নিষ্ঠার সাথে রোযা পালন করেন এবং তারাবির জামায়াতে নামায না জানা সত্ত্বেও শরীক হয়ে রুকু-সিজদা করে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করেন। রোযা রাখাটা তাদের কাছে তেমন কষ্টকর তো নয়ই বরং সোজা। কারণ, রোযা রাখাটা অন্যের কাছে তালিম না নিয়েও করা যায়। তালিম নিতেই লজ্জা। বাল্যে পাড়ার মসজিদে তালিম পেলে আজ তাদের মুখ লুকিয়ে থাকতে হতো না। এজন্য তাদের ঐতিহ্যবাহী পরিবারই দায়ী। ছেলেমেয়েকে প্রাথমিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষার, কমপক্ষে অন্তত নামাযে পড়া যায় সেটুকু শিক্ষা দেয়ারও প্রয়োজন কেউ বোধ করেনি বলে আজ তারা নাস্তিক ও মুরতাদে পরিণত হতে দ্বিধা করছেন না। জানেন না বলেই বিরূপতা।
এ প্রবন্ধে আমাদের বক্তব্য হলো অজ্ঞতাই মুসলিম নামধারী ইসলাম বিদ্বেষী বুদ্ধিজীবীদের ধর্মদ্রোহের আদি উৎস। একটু অনুসন্ধান করলেই জানা যাবে যে, এসব আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত লোক এদেশে ইসলামী আন্দোলনের ঘোর বিরোধী তাদের জন্ম ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে হলেও তাদের শৈশবে তারা কোন ধর্মীয় শিক্ষা পাননি। তাদের অভিভাবকগণ একজন মুসলিম হওয়ার চেয়ে একজন আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত সফল মানুষ হিসেবেই সন্তানকে গড়ে তুলতে আগ্রহী ছিলেন। এ জন্যই তাদের সব থাকলেও প্রকৃতপক্ষে কোন ধর্ম নেই। আর পাশ্চাত্য শিক্ষার গুণেই তাদের মধ্যে রয়েছে চরিত্র ও আদর্শগত বাস্তব জীবনের ভেতর নৈতিক শৈথিল্যের প্রতি অন্ধ সমর্থন। তারা নারীকে পরিবারের ভেতর শান্তিপূর্ণ কর্তব্য পালনে রত দেখতে চান না। চান নারী তার স্বাভাবিক লজ্জাশীলতা ত্যাগ করে বাইরে এসে অন্য কাজ করুক।
আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ ইসলাম সম্বন্ধে আক্ষরিক অর্থেই অশিক্ষিত। তাদের অধিকাংশ নর-নারীই পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দিক-দর্শন সম্বন্ধে কোনদিন অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হননি। এখন যেখানে বিশ্বব্যাপী ইসলাম সম্বন্ধে দারুন কৌতূহল জেগে উঠেছে, তখনও এরা না জেনেই ইসলামী আন্দোলনের বিরোধিতা করতে বদ্ধপরিকর। অথচ অনেকেরই ধারণা এই বুদ্ধিজীবীরা সঠিকভাবে ইসলামকে জানলে তারাই হতেন ইসলামী আন্দোলনের সবচেয়ে সহায়ক শক্তি।
আমরা মনে করি, বুদ্ধিজীবীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানই হবে এখন ইসলাম কায়েমের প্রাথমিক পদক্ষেপ। জানি না কে নিতে পারে এ দায়িত্ব। কেবল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ঘাড়ে এ দায়িত্ব চাপিয়ে বসে থাকলে আর চলছে না। কারণ, এখানে ইসলাম বিরোধীদের আত্মসম্মানেরও একটা ব্যাপার আছে। তারা সারাজীবন ইসলামের বিপক্ষে কথা বলে এসেছেন। এখন তাদেরই যদি আমরা ইসলামের প্রবক্তা করে তুলতে চাই তবে ইসলামী চিন্তায় অগ্রসর প্রত্যেক বুদ্ধিজীবী, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পীকে ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে পরিকল্পনামাফিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আর আলেম সমাজকে বুদ্ধিজীবীদের প্রতি করে তুলতে হবে সহনশীল ও নমনীয়। সমস্ত মান-অভিমান ত্যাগ করে অগণ্য ব্যক্তিদের কাছেও যদি ইসলামের দাওয়াত বৈপ্লবিক পন্থায় পৌঁছানো যায়, কেন জানি আমার মনে হয় বাংলা বুদ্ধিজীবীদের ইসলাম বিরোধিতা অচিরেই অবসন্ন হয়ে পড়বে